২০২৫ হিসাব বছরের একই সময়ে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। এতে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের সুদ থেকে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিনিয়োগ, কমিশনসহ অন্যান্য খাত থেকে ব্যাংকটি ৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। সব মিলিয়ে আলোচ্য প্রথমার্ধে ব্যাংকটির পরিচালন আয় হয়েছে ৫ হাজার ৭ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা।
চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৩ টাকা ৯ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সায়, যা গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ছিল ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা। এছাড়া চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৪০ টাকা ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮ টাকা ৪৭ পয়সা।
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ২০-২৫ শতাংশ। এর পেছনে মূলত কাজ করেছে “ফ্লাইট টু সেফটি” বা নিরাপদ প্রতিষ্ঠানের দিকে গ্রাহকদের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা। আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা যেমন সরকারি বন্ড বা স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করেন, তেমনি ব্যবসায়ী ও ব্যাংক গ্রাহকরাও নিরাপদ ও আস্থাশীল ব্যাংকে লেনদেন করতে চান। গত কয়েক বছরে ব্যাংক খাতে এ প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।’
তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমাদের নিট সুদ আয় ও কার্যদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আয়-ব্যয়ের অনুপাত কমিয়ে ৪২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কাছাকাছি। খেলাপি ঋণের হারও কমেছে। গত বছর ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা চলতি বছর কমে ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যালেন্স শিটের আকার বৃদ্ধি, কার্যদক্ষতার উন্নয়ন এবং সম্পদের প্রবৃদ্ধি—সব মিলিয়েই ব্র্যাক ব্যাংকের এ সাফল্য এসেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে আমরা ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করতে পেরেছি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৯০৫ কোটি টাকা।’
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল ব্যাংকটি, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় ৯ টাকা ১২ পয়সা যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৬ টাকা ১৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৫৬ পয়সায়। ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে ছিল ৪ টাকা ৩০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ১১ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৩০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত), আগের হিসাব বছরে ছিল ৩ টাকা ৭৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৬০ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত), আগের হিসাব বছরে ছিল ৩ টাকা ৬৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ১ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিত অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।